বিয়ে কেন শুধু একটি সামাজিক রীতি নয়
আজকের সমাজে বিয়েকে অনেক সময় শুধু পারিবারিক অনুষ্ঠান বা সামাজিক দায়বদ্ধতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে এর চেয়ে অনেক গভীর একটি বিষয় — এটি একটি ইবাদত, একটি মানসিক প্রশান্তির উৎস, এবং দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করার মাধ্যম।
কুরআনে বিয়ের বর্ণনা
আল্লাহ তাআলা সূরা আর-রূমের ২১ নম্বর আয়াতে বলেছেন — তিনি মানুষের মধ্য থেকেই তাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তারা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারে, এবং তাদের মাঝে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করে দিয়েছেন। এই আয়াতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এসেছে — সাকান (প্রশান্তি), মওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা), আর রাহমাহ (দয়া/করুণা)। অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত এই তিনটি স্তম্ভ।
দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ হওয়া
ইমাম বায়হাকী তাঁর হাদিস সংকলনে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — যখন কোনো বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক অংশ পূর্ণ করে ফেলে; বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে তার আল্লাহকে ভয় করা উচিত। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বিয়ে শুধু দুনিয়াবি প্রয়োজন মেটানোর বিষয় নয় — এটি একজন মুমিনকে পাপ থেকে বাঁচিয়ে দ্বীনের পথে সহায়তা করার একটি বড় মাধ্যম।
বিয়ে একটি আমানত, একটি দায়িত্ব
বিয়েকে ইসলাম শুধু অধিকার আদায়ের জায়গা হিসেবে দেখেনি, বরং এটিকে একটি পারস্পরিক আমানত হিসেবে উপস্থাপন করেছে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই একে অপরের প্রতি নির্দিষ্ট অধিকার ও দায়িত্ব আছে, এবং আল্লাহর কাছে উভয়কেই এর জবাবদিহি করতে হবে।
পরিশেষে
যারা বিয়ের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, তাদের উচিত এই উদ্দেশ্যগুলো মাথায় রেখে এগোনো — শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য, সামাজিক মর্যাদা বা আর্থিক অবস্থা নয়, বরং দ্বীনদারিত্ব, চরিত্র এবং একসাথে আখিরাতের পথে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তথ্যসূত্র: সূরা আর-রূম, আয়াত ২১; সুনানে বায়হাকী।
