ইস্তিখারা কী
ইস্তিখারা হলো এমন একটি নামাজ ও দুআ, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে আল্লাহর কাছে সঠিক পথ দেখানোর জন্য প্রার্থনা করা হয়। বিয়ে যেহেতু জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, তাই এক্ষেত্রে ইস্তিখারা করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
হাদিসে ইস্তিখারার নির্দেশনা
সহীহ বুখারীতে জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের সব বিষয়ে ইস্তিখারা করা শেখাতেন, যেভাবে তিনি তাঁদের কুরআনের কোনো সূরা শেখাতেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইস্তিখারা কোনো ঐচ্ছিক বা গৌণ আমল নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
ইস্তিখারার পদ্ধতি
ইস্তিখারার পদ্ধতি হলো — দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে এরপর নির্দিষ্ট দুআ পাঠ করা, যেখানে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয় যে, যদি এই সিদ্ধান্ত (যেমন এই বিয়ের প্রস্তাব) তার জন্য দ্বীন-দুনিয়া উভয় দিক থেকে কল্যাণকর হয়, তাহলে যেন তা সহজ করে দেন এবং তাতে বারাকাহ দেন; আর যদি তা কল্যাণকর না হয়, তাহলে যেন তা থেকে দূরে সরিয়ে দেন এবং তার পরিবর্তে যা কল্যাণকর তা দান করেন।
ইস্তিখারা মানেই স্বপ্ন দেখা নয়
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, ইস্তিখারা করলেই নির্দিষ্ট কোনো স্বপ্ন দেখা যাবে যা থেকে সরাসরি উত্তর পাওয়া যাবে। প্রকৃতপক্ষে ইস্তিখারার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তারপর যে পরিস্থিতি তৈরি হয় (মন সায় দেওয়া, পরিস্থিতি সহজ বা কঠিন হয়ে যাওয়া) তার মধ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা খোঁজা — এটি অবশ্যই স্বপ্নের ওপর নির্ভরশীল কোনো বিষয় নয়।
আমাদের জন্য শিক্ষা
কোনো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধায় থাকলে, শুধু পরিবার-পরিজনের মতামতের ওপর নির্ভর না করে নিজে ইস্তিখারা করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত — এটি একজন মুমিনের জন্য মানসিক প্রশান্তিরও একটি বড় উৎস।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী।
