মোহর নারীর অধিকার, উপহার নয়
সূরা আন-নিসার ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন — তোমরা নারীদের তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। এই আয়াতে ব্যবহৃত ভাষা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মোহর কোনো ঐচ্ছিক উপহার নয়, বরং এটি বিয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং নারীর ন্যায্য অধিকার, যা পুরোপুরি তার নিজস্ব সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়।
মোহর সহজ রাখার শিক্ষা
আমাদের সমাজে অনেক সময় মোহরানা নিয়ে বাড়াবাড়ি রকমের প্রতিযোগিতা দেখা যায় — যেন এটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। অথচ ইসলামের শিক্ষা এর ঠিক বিপরীত। বিভিন্ন হাদিসে বিয়েকে সহজ ও ঝামেলামুক্ত রাখার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ বিয়েতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সাহাবীদের যুগে অনেক বিয়ে সামান্য মোহরের বিনিময়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায় — এমনকি একজন সাহাবীকে রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরআনের কিছু অংশ শিক্ষা দেওয়ার বিনিময়েও মোহর নির্ধারণ করতে বলেছিলেন (সহীহ বুখারী)।
মোহর বিলম্বিত করার ভুল প্রবণতা
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, মোহর পরিশোধ না করেই বা দীর্ঘদিন বাকি রেখে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়, অথচ এটি স্ত্রীর প্রতি একটি ঋণ হিসেবে থেকে যায়। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অবহেলার বিষয় নয় — বরং স্বামীর ওপর এই দায়িত্ব বর্তায় যে, তার সামর্থ্য অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব এই অধিকার আদায় করে দেওয়া।
নারীর সম্পূর্ণ মালিকানা
মোহর একবার নির্ধারিত ও প্রদত্ত হয়ে গেলে, তার ওপর সম্পূর্ণ মালিকানা একমাত্র স্ত্রীর — বাবা, ভাই বা স্বামী কারো এতে জোরপূর্বক ভাগ বসানোর অধিকার নেই, যদি না স্ত্রী নিজে স্বেচ্ছায় তা কাউকে দিতে চান (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪)। এটি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অধিকার, যা অনেক সময় আমাদের সমাজে যথাযথভাবে মানা হয় না।
পরিশেষে
মোহরানা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় উভয় পরিবারের উচিত ইসলামের এই মূলনীতি মনে রাখা — অতিরিক্ত বোঝা তৈরি না করে সামর্থ্য অনুযায়ী একটি ন্যায্য পরিমাণ নির্ধারণ করা, এবং তা যথাসময়ে পরিশোধ করে নারীর অধিকার নিশ্চিত করা।
তথ্যসূত্র: সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪; সহীহ বুখারী।
