অভিভাবকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু একচ্ছত্র নয়
ইসলামে সন্তানের বিয়েতে বাবা-মা বা অভিভাবকের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয় — তাঁদের অভিজ্ঞতা ও শুভাকাঙ্ক্ষা সন্তানের জন্য উপকারী। তবে এর মানে এই নয় যে সন্তানের নিজের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা যাবে।
সম্মতি ছাড়া বিয়ে বৈধ নয়
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — পূর্বে বিবাহিতা নারীর অনুমতি ছাড়া তার বিয়ে দেওয়া যাবে না, আর কুমারী মেয়ের কাছেও তার সম্মতি নিতে হবে। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কুমারী মেয়ের সম্মতি কীভাবে বোঝা যাবে? রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তার চুপ থাকাই তার সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণভাবে অনুমোদিত নয়।
পরামর্শ ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব
তবে এর মানে এটাও নয় যে সন্তান সম্পূর্ণ একা সিদ্ধান্ত নেবে। ইসলাম পারিবারিক পরামর্শ ও অভিজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেয় — বিশেষত চরিত্র যাচাই, পরিবারের পটভূমি জানা, বা সন্তানের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে যাচাই করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান।
দ্বীন ও চরিত্র দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত
জামে তিরমিযীতে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যখন এমন কেউ প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীন ও চরিত্রে অভিভাবকরা সন্তুষ্ট, তখন অহেতুক দেরি না করে বিয়ে সম্পন্ন করা উচিত। এই হাদিস আমাদের সমাজে প্রচলিত অনেক অহেতুক শর্ত ও দেরি করার প্রবণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আমাদের জন্য শিক্ষা
একজন ভালো অভিভাবক হলেন তিনি, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে সন্তানকে সাহায্য করেন, কিন্তু তার মতামতকে সম্মান করেন এবং জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম; জামে তিরমিযী।
