রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দুই কন্যার সাথে বিয়ে
উসমান ইবনু আফফান (রা.) প্রথমে বিয়ে করেছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কন্যা রুকাইয়া (রা.)-কে। তাঁদের বিয়ের কিছুদিন পরই ইসলাম গ্রহণের কারণে মক্কার কাফেরদের অত্যাচার তীব্র হয়ে ওঠে, এবং উসমান-রুকাইয়া দম্পতি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশে হাবশায় (আবিসিনিয়া) হিজরত করেন — ইতিহাসে যা প্রথম হিজরত হিসেবে পরিচিত।
এক শোক, এক নতুন অধ্যায়
বদর যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন, এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন। উসমান (রা.) তখন যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে অসুস্থ স্ত্রীর সেবার জন্য মদিনায় থাকতে বলেছিলেন। রুকাইয়া (রা.)-এর মৃত্যুর কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর আরেক কন্যা উম্মে কুলসুম (রা.)-এর সাথে উসমান (রা.)-এর বিয়ে দেন।
"যুন-নূরাইন" উপাধির কারণ
একই ব্যক্তির সাথে নবীজির পরপর দুই কন্যার বিয়ে হওয়া ইসলামের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা, এবং এই কারণেই উসমান (রা.)-কে "যুন-নূরাইন" (দুই নূরের অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এই ঘটনা সীরাত ও ইতিহাসের সুপরিচিত ও সুপ্রমাণিত একটি অধ্যায়।
আমাদের জন্য শিক্ষা
এই কাহিনী থেকে বোঝা যায়, জীবনসঙ্গীর মৃত্যু বা বিচ্ছেদের পর আবার নতুন করে সংসার শুরু করা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি ইসলামের স্বাভাবিক ও উৎসাহিত একটি বিষয়। শোক কাটিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার মধ্যে কোনো লজ্জা বা দ্বিধা নেই।
তথ্যসূত্র: সীরাতে ইবনে হিশাম; সিহাহ সিত্তাহ-ভিত্তিক ঐতিহাসিক বর্ণনা।
