MyGhotok
দাম্পত্য-জীবন

দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার ইসলামিক নীতিমালা

MyGhotok সম্পাদকীয় ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
শেয়ার করুন:

সদাচরণের নির্দেশ কুরআনে

সূরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন — স্বামীদের প্রতি, তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ করে জীবনযাপন করো। এমনকি যদি কোনো কারণে স্ত্রীকে অপছন্দ হয়ে যায়, তাহলেও তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করা হয়েছে — কারণ হতে পারে, যা তোমরা অপছন্দ করছো তার মধ্যেই আল্লাহ প্রচুর কল্যাণ রেখে দিয়েছেন।

সর্বোত্তম মুমিন কে

জামে তিরমিযীতে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে পরিপূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম; আর তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করে। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের চরিত্রকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করে বলেছেন, তিনি নিজেও তাঁর পরিবারের সাথে সর্বোত্তম আচরণকারী।

পারস্পরিক অধিকার

সূরা আল-বাকারার ২২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, নারীদের জন্যও (পুরুষদের ওপর) ন্যায়সঙ্গত অধিকার আছে, যেমন পুরুষদের জন্য (নারীদের ওপর) অধিকার আছে। এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্ক একতরফা কর্তৃত্বের নয়, বরং পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্বের এক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো।

ধৈর্য ও ক্ষমাশীলতা

কোনো সংসারই সবসময় নির্ঝঞ্ঝাট থাকে না — মতের অমিল, ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। ইসলাম এক্ষেত্রে ধৈর্য ধরা, একে অপরের ভুল ক্ষমা করে দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানে পরিবারের গুরুজন বা মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নেওয়াকে উৎসাহিত করে (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৫)। ছোটখাটো বিষয়ে জেদ ধরে সম্পর্ক নষ্ট করার চেয়ে বড় মন নিয়ে ছাড় দেওয়াকেই ইসলাম উত্তম গুণ হিসেবে গণ্য করে।

পরিশেষে

একটি সুখী দাম্পত্য জীবন এমনি এমনি তৈরি হয় না — এটি প্রতিদিনের সদাচরণ, সম্মান, এবং একে অপরের অধিকার বোঝার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। কুরআন-হাদিসের এই শিক্ষাগুলো মনে রাখলে দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৯ ও ৩৫; সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৮; জামে তিরমিযী।

আরও পড়ুন