MyGhotok
দাম্পত্য-জীবন

শ্বশুরবাড়ির সাথে সম্পর্ক: ইসলামি নৈতিকতা

MyGhotok সম্পাদকীয় ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
শেয়ার করুন:

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা

ইসলামে রক্তের সম্পর্কের পাশাপাশি বৈবাহিক সূত্রে তৈরি হওয়া আত্মীয়তাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক (সিলাতুর রাহিম) বজায় রাখে। যদিও এই হাদিস মূলত রক্তের আত্মীয়দের নিয়ে, তবে বিয়ের মাধ্যমে তৈরি হওয়া নতুন পারিবারিক সম্পর্ককেও এই বৃহত্তর নীতির আলোকে সম্মান ও যত্নের সাথে দেখা ইসলামের সামগ্রিক শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সদাচরণের ব্যাপ্তি

সূরা আন-নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং কাছের-দূরের সবার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাও এই ব্যাপক নির্দেশনার আওতায় পড়েন, বিশেষত যেহেতু বিয়ের মাধ্যমে তাঁরা পরিবারেরই একটি অংশ হয়ে যান।

উভয়পক্ষের দায়িত্ব

এই সম্পর্ক শুধু একপক্ষীয় নয় — যেমন পুত্রবধূ বা জামাতার উচিত শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সম্মান করা, তেমনি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরও উচিত নতুন সদস্যকে সহানুভূতি ও উদারতার সাথে গ্রহণ করা। ইসলাম কোনো পক্ষকে একতরফাভাবে ছাড় দিতে বলেনি — বরং উভয়পক্ষকেই ন্যায্য ও সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছে।

দাম্পত্য জীবনে প্রভাব

শ্বশুরবাড়ির সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রায়ই দাম্পত্য জীবনে চাপ তৈরি করে। এক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর উচিত ভারসাম্য বজায় রাখা — নিজের জীবনসঙ্গীকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি নিজের পরিবারের সাথেও সদাচরণ বজায় রাখা, একপক্ষকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা না করে।

আমাদের জন্য শিক্ষা

একটি সুস্থ দাম্পত্য জীবনের জন্য শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো হলেই চলে না — উভয় পরিবারের মধ্যে সম্মান ও সদাচরণের সম্পর্কও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম; সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৬।

আরও পড়ুন