ভরণপোষণ একটি অধিকার, দয়া নয়
ইসলামে স্ত্রীর ভরণপোষণ (নফকাহ) — খাবার, পোশাক, বাসস্থান ইত্যাদি — কোনো ঐচ্ছিক দয়া বা অনুগ্রহ নয়, বরং এটি স্বামীর ওপর স্ত্রীর একটি নির্ধারিত অধিকার। সূরা আত-তালাকের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তি তার সামর্থ্য অনুযায়ী ভরণপোষণ দেবে, আর যার সামর্থ্য সীমিত, সে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকেই ভরণপোষণ দেবে।
সামর্থ্য অনুযায়ী, বাড়াবাড়ি নয়
এই আয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো — আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। অর্থাৎ ভরণপোষণের পরিমাণ পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হবে, কোনো অবাস্তব বা অতিরিক্ত চাহিদার ভিত্তিতে নয়।
ন্যায্য পরিমাণে ভরণপোষণ
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি ঘটনায়, হিন্দ বিনতে উতবা (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর স্বামী আবু সুফিয়ান কৃপণ এবং তাঁকে ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ দেন না। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বলেছিলেন, ন্যায্য পরিমাণে যা তোমার ও তোমার সন্তানের জন্য যথেষ্ট, তা নিয়ে নাও। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীর ভরণপোষণের অধিকার এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রয়োজনে এটি নিশ্চিত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শুধু অর্থ নয়, মানসিক দিকও
ভরণপোষণ শুধু আর্থিক বিষয় নয় — এর মধ্যে সময় দেওয়া, মানসিক সহায়তা এবং সম্মানজনক আচরণও অন্তর্ভুক্ত, যা সূরা আন-নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে সদাচরণের নির্দেশনার মধ্যেই এসে যায়।
আমাদের জন্য শিক্ষা
বিয়ের আগে আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনা করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি না হয়। পাশাপাশি, উভয় পক্ষেরই বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা রাখা উচিত — সামর্থ্যের বাইরে কিছু দাবি করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও ইসলামসম্মত নয়।
তথ্যসূত্র: সূরা আত-তালাক, আয়াত ৭; সহীহ বুখারী।
