প্রত্যেকেই একজন তত্ত্বাবধায়ক
সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন — তোমাদের প্রত্যেকেই একজন তত্ত্বাবধায়ক (রাখাল), এবং প্রত্যেককেই তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক এবং তার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে, আর নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক এবং তার ব্যাপারেও জিজ্ঞাসিত হবে।
উভয়েরই জবাবদিহিতা
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় — সন্তান লালন-পালন কোনো একতরফা দায়িত্ব নয়। বাবা যেমন আর্থিক নিরাপত্তা ও সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য দায়বদ্ধ, মা তেমনি প্রতিদিনের যত্ন ও নৈতিক শিক্ষার জন্য দায়বদ্ধ — কিন্তু উভয়কেই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
সন্তানের দ্বীনি শিক্ষায় গুরুত্ব
সূরা আত-তাহরিমের ৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন নিজেদের ও নিজেদের পরিবারকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করতে। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সন্তানের দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে বাবা-মা উভয়েরই সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত, শুধু জীবিকা অর্জন বা গৃহস্থালি কাজেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়।
সময় ও মনোযোগের গুরুত্ব
আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক বাবা-মা মনে করেন, সন্তানের জন্য টাকা-পয়সা বা সুযোগ-সুবিধা দিলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা বলে, সন্তানের সাথে সময় কাটানো, তার নৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং তার চরিত্র গঠনে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা বাবা-মা উভয়েরই দায়িত্ব।
আমাদের জন্য শিক্ষা
বিয়ের আগে থেকেই দম্পতিদের উচিত সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা — এটি কোনো একজনের একার বোঝা নয়, বরং উভয়ের যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম; সূরা আত-তাহরিম, আয়াত ৬।
