MyGhotok
দাম্পত্য-জীবন

তালাক ইসলামে — একটি অপছন্দনীয় কিন্তু বৈধ ব্যবস্থা

MyGhotok সম্পাদকীয় ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
শেয়ার করুন:

তালাক একটি শেষ বিকল্প

ইসলামে বিয়ে যেমন একটি পবিত্র বন্ধন, তেমনি তালাককেও একেবারে নিষিদ্ধ করা হয়নি — কারণ বাস্তবতা হলো, কিছু সম্পর্ক সত্যিই আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। তবে কুরআন ও হাদিসের সামগ্রিক নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তালাক হওয়া উচিত সব ধরনের চেষ্টা ও সমঝোতার পরে নেওয়া একেবারে শেষ সিদ্ধান্ত।

সদাচরণে ধরে রাখা অথবা সদাচরণে বিদায়

সূরা আল-বাকারার ২২৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন — হয় স্ত্রীকে সদাচরণে ধরে রাখতে হবে, নয়তো সদাচরণের সাথে বিদায় দিতে হবে। এই আয়াত থেকে স্পষ্ট, তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা প্রতিহিংসা বা অপমানের মাধ্যমে নয় — বরং সম্মান ও ন্যায্যতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে।

ইদ্দতের সময় ও পুনর্বিবেচনার সুযোগ

ইসলাম তালাকের পরও একটি অপেক্ষার সময়কাল (ইদ্দত) নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে দম্পতি চাইলে পুনর্বিবেচনা করে আবার একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এই ব্যবস্থা থেকে বোঝা যায়, ইসলাম চায় না মানুষ আবেগের বশে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিক।

নারীর সম্মান রক্ষা

তালাকের ক্ষেত্রেও নারীর প্রতি অবিচার করা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে — তার মোহর ফেরত নেওয়া, তাকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা, বা অসম্মানজনকভাবে বের করে দেওয়া ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩১)।

আমাদের জন্য শিক্ষা

যারা দাম্পত্য জীবনে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাদের প্রথম চেষ্টা হওয়া উচিত সমঝোতা, পরিবারের মধ্যস্থতা এবং ধৈর্য ধরে সমাধান খোঁজা। তালাক যদি একান্তই অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা যেন সম্মান ও ন্যায্যতার সাথে সম্পন্ন হয় — প্রতিহিংসার মানসিকতা নিয়ে নয়।

তথ্যসূত্র: সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৯-২৩১।

আরও পড়ুন